হঠাৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে হেফাজতের নেতারা news

0
60
news

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে গত ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়ে news ভাঙচুর ও সংগঠনের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিনকে মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদে হেফাজতের সংবাদ বয়কটের ডাক দিয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব। এর মধ্যে সোমবার দুপুরে হঠাৎই প্রেসক্লাবে হাজির হন হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কিছু নেতা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার news ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি জানান হেফাজতের নেতারা। ওই তিন দিনে জেলার রেলস্টেশন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালানো হয়।

সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় হেফাজতের নায়েবে আমির সাজিদুর রহমান, জেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা শহরের কান্দিপাড়ায় অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মো. মোবারকুল্লাহ, মাওলানা আলী আযম, মুফতি বোরহান উদ্দিন কাসেমী, মুফতি নোমান হাবিবি, মুফতি বোরহান উদ্দিন আল মতিন প্রমুখ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আসেন।

এ সময় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত news ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বলেন, সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের ভিডিও ও স্থিরচিত্র তুলতে হয়। কিন্তু এসব কাজ করতে গেলে হেফাজতের নেতা–কর্মীরা জেলার সাংবাদিকদের বাধা দেন, মারধর করতে উদ্যত হন। তিনি হেফাজতের নেতাদের কাছে জানতে চান ‘সাংবাদিকেরা কি হেফাজতের টাগের্টে পরিণত হয়েছেন?’

হেফাজতের পক্ষ থেকে প্রথমে বক্তব্য দেন জেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মোবারকুল্লাহ। তিনি বলেন, ২৮ মার্চ সকালে তাঁরা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেন। পরে দোয়া শেষে সবাইকে নিয়ে ফিরে যান। পরে কখন, কী ঘটনা ঘটেছে, তাঁরা তা জানতেন না। তিনি বলেন, ‘আমার যতটুকু জানা ও বিশ্বাস, আমাদের কেউ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ভাঙচুরসহ সব ঘটনার জন্য আমরা নিন্দা জানাই। কে বা কারা করেছে, এসব তদন্তে বের হবে।’

সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের ভিডিও ও স্থিরচিত্র তুলতে হয়। কিন্তু এসব কাজ করতে গেলে হেফাজতের নেতা–কর্মীরা জেলার সাংবাদিকদের বাধা দেন, মারধর করতে উদ্যত হন।

জাবেদ রহিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক

কেন্দ্রীয় হেফাজতের নায়েবে আমির সাজিদুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে এসেছি news সমবেদনা জানানোর জন্য। দুঃখ প্রকাশ করা জন্য। আমরা (২৮ মার্চ) শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করেছি। হরতালে বলেছি, কেউ সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করবেন না। যদি কেউ ভাঙচুর করে, সে আমাদের লোক নন। আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করে মাদ্রাসার সামনে অবস্থান করেছি। কে বা কারা প্রেসক্লাব, ভূমি অফিসসহ আরও বিভিন্ন স্থাপনায় ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমরা জানি না। আমরা আগেও নিন্দা জানিয়েছি, এখনো জানাই।’ তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বের করা আপনাদের দায়িত্ব। যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ভাঙচুর করে, তারা কোনো দিন হেফাজতের হতে পারে না। আমাদের হতে পারে না। আমরা নিন্দা জানাই। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে আামদের আসতে দেরি হয়েছে।’

প্রেসক্লাবে হেফাজত নেতাদের হঠাৎ আসা প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বলেন, ‘হেফাজতের নেতা–কর্মীরা কিছু না জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসক্লাবে আসেন। যেহেতু তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, তাই হেফাজতের সংবাদ বর্জনের কর্মসূচির বিষয়টি প্রেসক্লাবের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বিবেচনা করা হবে।’

আর হেফাজতের হরতালের দিন হামলায় আহত প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, দুষ্কৃতকারীরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে। হরতাল আহ্বানকারী (হেফাজত) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে এর দা নিতে হবে।

source: https://www.prothomalo.com/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here